সেতুমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নিয়ে ফেসবুকে কটুক্তি করার অভিযোগে বাসস, যুগান্তর ও চ্যানেল ২৪ প্রতিনিধি রাক্ষুসে সাংবাদিক আক্কাস সিকদারের নামে ঝালকাঠিতে ডিজিটাল আইনে মামলা করেছেন জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শারমিন মৌসুমী কেকা। বুধবার ২৯ জুলাই রাতে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ২০১৮ এর ২৯, ৩১ ও ৩৫ ধারায় তিনি ঝালকাঠি থানায় এ মামলা দায়ের করেন। (মামলা নং-১৭) মামলা হবার পর রাতেই পুলিশ আক্কাস সিকদারের তরকারী পট্টিস্থ ভাড়া বাসায় অভিযান চালায়। কিন্তু এর আগেই আাক্কাস পালিয়ে যাওয়ায় তাকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি।

এ মামলায় অজ্ঞাতনামা ৩/৪ জনকেও আসামী করা হয়েছে। বাদী মামলার এজাহারে উল্লেখ করেন, জনৈক নেয়ামুল বাশার তার ফেসবুক আইডিতে গত ১৫ জুলাই এক ষ্ট্যাটাসের কমেন্টসে আক্কাস সিকদার লেখেন ” চাঁদা দেবে ১৯ জায়গায় নয়তো ২০ জায়গায় নেবে কারো কিছু করার আছে? স্বাধীন বাংলা চাদাবাজী বা চাদা আদায় স্বরাষ্টমন্ত্রনালয় মন্ত্রী এবং সেতু মন্ত্রী ও-কা স্বীকৃত একটি পেশা। এ পেশায় অন্তত ২০ হাজার লোক কাজ করে” মর্মে কমেন্টস করে।

তার কমেন্টে তিনি মাননীয় সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি মহোদয়ের নামকে ব্যবহার করে ও-কা হিসেবে উল্লেখ করেছে। উল্লেখিত বিবাদীরা পরস্পর যোগসাজশে ও সহযোগিতায় বাংলাদেশ সরকারের দুইজন মাননীয় মন্ত্রীকে হেয় প্রতিপন্ন ও মানহানি করার উদ্দেশ্যে উল্লেখিত কমেন্টস করেছেন। যা ব্যাপক ভাবে প্রকাশ পেলে আইনশৃংখলা পরিস্থিতি চরম অবনতী হবার আশংকা রয়েছে। এদিকে এই ঘটনায় ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে জেলা আওয়ামী লীগ।

জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট খান সাইফুল্লাহ পনির এভাবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হেয় প্রতিপন্ন করার নিন্দা জানিয়েছেন এবং অভিযুক্তর শাস্তি দাবি করেছেন। উল্লেখ্য, এর আগে ঝালকাঠির সাংবাদিকদের একটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে দেয়ার অভিযোগে আক্কাস সিকদারের বিরুদ্ধে করা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় ( ধারা-২৫,২৯ ও ৩৫) সম্প্রতি চার্জশিট দিয়েছে বরিশাল পিবিআই।

রাক্ষুসে সাংবাদিক আক্কাস সিকদারের দ্বারা ইতিপূর্বে প্রায় দেড় ডজন সাংবাদিককে বিভিন্নভাবে মামলা-হামলা এবং মামলা দিয়ে হয়রাণী ও লাঞ্ছিতের অভিযোগ রয়েছে। দ্বৈতপেশার সাংবাদিক আক্কাসের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের খবরে বেশিরভাগ সাংবাদিকরা দৃষ্টান্দমূলক বিচারের দাবি করেন।

আপনার মতামত দিন